Followers

Wednesday, 14 March 2012

দেন-মোহরের টাকা পরিশোধ না করে কি স্ত্রীকে স্পর্শ করা যাবে?

প্রশ্নঃ দেন-মোহরের টাকা পরিশোধ না করে কি স্ত্রীকে স্পর্শ বা দর্শন করা যাবেনা? বাসর রাত্রেই কি মোহরের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধ করতে হয়? স্বামী কি স্ত্রীর কাছে ঐ রাত্রেই দেন-মোহরের টাকা মাফ চাইতে পারবে? স্ত্রী যদি মাফ করে দেন তাহলে ভবিষ্যতে কি পরিশোধ করতে হবে না? বিয়ের সময় স্ত্রীকে যে অলংকার বা অন্যান্য জিনিস দেওয়া হয় তা সাধারনতঃ দেন-মোহরের টাকা থেকে কেটে রাখা হয়। এটা কি ঠিক? অনেকেই আট/দশ লক্ষ টাকা দেন-মোহর ধার্য করে থাকে,অথচ এক সময়ে এই টাকা পরিশোধ করা স্বামীর পক্ষে সম্ভব হয় না! তখন তার হুকুম কি? অনেক সময় বংশ মর্যাদার অনুযায়ী বড় অংকের মহরানা ধার্য করতে দেখা যায়। এটা কি ঠিক? দেন-মোহর সংক্রান্ত বিষয় বিস্তারিত জানতে চাই।

(প্রশ্নটি করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের জনৈক ছাত্র)

উত্তরঃমহরানা স্ত্রীর প্রাপ্য একটা ঋণ বিশেষ! স্ত্রীর দেন-মোহর স্বামীর উপর অবশ্য পরিশোধ্য বিষয়। এটি ফরজ। এজন্য যতটুকু পরিমান স্বামীর পক্ষে পরিশোধ করা সম্ভব, সেই পরিমানই দেন-মোহর ধার্য করা কর্তব্য। না দেওয়ার ইচ্ছা পোষণ করে মোটা অংকের দেন-মোহর ধার্য করে সম্পাদিত বিয়ে শুদ্ধ হয়না! দেন-মোহর একান্ত ভাবেই স্ত্রীর প্রাপ্য। স্ত্রী যদি ইচ্ছা করেন তবে তাকে স্পর্শ করার আগেই স্বামীকে তা আদায় করে দিতে বাধ্য করতে পারেন। যদি পরস্পরের সম্মতিক্রমে সময় নেওয়া হয়, তবে তা বৈধ হবে। অর্থাৎ বিলম্বেও পরিশোধ করা যাবে। বাসর রাত্রে স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর নিকট দেন-মোহর মাফ চাওয়া নিতান্ত কাপুরুষচিত একটি প্রথা। নতুন বৌ লজ্জার খাতিরে হয়তো মাফ করে দিলাম বলে দেয়,কিন্তু যেহেতু সন্তুষ্টচিত্তে সেই ঋণ ক্ষমা করা হয়না, তাই এরুপ ক্ষমা চাওয়া অর্থহীন, লজ্জাস্কর।

হযরত নবী করীম (সাঃ) এঁর কন্যা হযরত ফাতেমার (রাঃ) চাইতে বড় বংশ মর্যাদা ওয়ালা দুনিয়াতে আর কেউ কি আছেন? অথচ তাঁর দেন-মোহর ধার্য ১৩০ তোলা রুপার কাছাকাছি! সুতরাং হিসাব করে দেখুন আমাদের কি করা কর্তব্য!

No comments:

Post a Comment

Related Posts Plugin for WordPress, Blogger...