▷ ▸ ▹▷ ▸ ▹ আজ মিলাদুন নবী صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم ▷ ▸ ▹▷ ▸ ▹
মাহে রবিউন্ নূর তথা রবিউল আউয়াল শরীফে কি আসে চতুর্দিকে বসন্তকাল আগমন করে। মক্কী মাদানী মোস্তফা, হযরত মুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّمএর দিওয়ানা ভাইদের অন্তরে আনন্দের ঢেউ খেলে যায়। বৃদ্ধ হোক কিংবা যুবক হোক, প্রতিটি প্রকৃত মুসলিম যেন অন্তরের মুখ দিয়ে অন্তরের ভাষায় গেয়ে উঠে।
“নিছার তেরী চেহেল পেহেল পর হাজার ঈদে রবিউল আউয়াল,
সিওয়ায়ে ইবলিস কে জাহা মে সবহি তো খুশিয়া মানা রহে হে।”
যখন সমগ্র বিশ্ব কুফরী, শিরক, পশুত্ব, বর্বরতার ঘোর অন্ধকারে ছেয়ে গিয়েছিল ঠিক তখনি ১২ই রবিউন নুর এর রাতে মক্কায়ে মোকাররমায় হযরত সায়্যিদাতুনা মা আমিনা আলোকিত করে দিল। ভুলুণ্ঠিত মানবতা যার আগমনের প্রতীক্ষায় ব্যকুল ছিল, তাজেদারে মাদীনা, আল্লাহর মাহবুব, প্রিয় নবী, হযরতমুহাম্মদ صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য রহমত হয়ে এই পৃথিবীতে শুভাগমন করলেন।
“মুবারক হো কেহ খাতামুল মুরসালিন তাশরিফ লে আয়ে,
জনাবে রাহমাতুলি−ল আলামিন তাশরিফ লে আয়ে।”
খাতামুল মুরছালীন, রহমতুলি−ল আলামীন, প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم প্রতিটি অশান্ত আত্মার শান্তির প্রলেপ হয়ে ১২ রবিউল আউয়াল শরীফের সুবহে ছাদিকের সময় জগতে শুভাগমন করেছেন এবং এসেই নিরাশ্রয়, পেরেশান, দুঃখী, আঘাতে ক্ষতবিক্ষত, স্থানে স্থানে আঘাত প্রাপ্ত বেচারা গরীবদের অন্ধকার সন্ধ্যাকে বসন্তের সকাল বানিয়েদিয়েছেন।
“মুসলমানো সুবহে বাহারা মুবারক,
ওহ বরসাতে আনওয়ার সরকার আয়ে।”
(ওয়াসায়েলে বখশিশ, পৃ-৪৭৯)
মুজিযা বা অলৌকিক ঘটনাবলী
১২ই রবিউন্ নূর শরীফে আল্লাহর নূর, প্রিয় صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم দুনিয়াতে শুভাগমন করার সাথে সাথে কুফরী ও শিরিকের মেঘ কেটে গেল। ইরান সম্রাট “কিসরার” প্রাসাদে ভূকম্পন হল তাতে ১৪টি গম্বুজ ধ্বংস হলো। ইরানের যে অগ্নিকুন্ড শত বছর ধরে জলছিল হঠাৎ করে মুহূর্তে নিভে গেল। নদী শুকিয়ে গেল। কাবা শরীফ উল−সিত হলো।আর মাথা নিচু করে মূর্তিগুলো উল্টে পড়ে গেল।
“তেরী আমদ থি কেহ বাইতুল্লাহ মুজরি কো ঝোকা,
তেরী হায়বত থি কেহ হার ভুত থর থরা কর গীর গেয়া।”
তাজদারে রিসালত প্রিয় নবী صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم পৃথিবীতে অনুগ্রহ ও রহমত হয়ে তাশরীফ আনলেন। আর অবশ্যই আল্লাহ্ তা’আলার রহমত অবতীর্ণ হওয়ার দিনই তো আনন্দ ও উৎসবের দিন হয়।
যেহেতেু আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,
قُلْ بِفَضْلِ اللَّهِ وَبِرَحْمَتِهِ فَبِذَٰلِكَ فَلْيَفْرَحُوا هُوَ خَيْرٌ مِّمَّا يَجْمَعُونَ
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদঃ আপনি বলুন- আল্লাহরই অনুগ্রহ তারই দয়া এবং সেটার উপর তাদের আনন্দ প্রকাশ করা উচিৎ। তা তাদের সমস্ত ধন-দৌলত অপেক্ষা উত্তম। (পারা-১১, সুরা ইউনুচ-আয়াত-৫৮)
আল্লাহু আকবর! আল্লাহর রহমতের উপর আনন্দ উদযাপনের জন্য কোরআনুল করীমে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আর আমাদের আকা হযরত صَلَّی اللّٰہُ تَعَالٰی عَلَیۡہِ وَاٰلِہ وَسَلَّم নবী করীম এর চেয়ে বড় আল্লাহর কোন রহমত আর কিছু কি আছে? দেখুন কোরআন মজিদ’র অন্য আর এক জায়গায় এ ব্যাপারে পরিস্কার ঘোষণা দিচ্ছে।
وَمَا أَرْسَلْنَاكَ إِلَّا رَحْمَةً لِّلْعَالَمِينَ [٢١:١٠٧ ]
কানযুল ঈমান থেকে অনুবাদঃ এবং আমি আপনাকে প্রেরণ করিনি কিন্তু রহমত করে সমগ্র বিশ্ব জগতের জন্য। (পারা-১৭, সুরা আম্বিয়া, আয়াত নং-১০৭)
ভাল লাগলে লাইক দিতে ভুলবেন না।
No comments:
Post a Comment